মহাবিশ্বের সন্ধানে এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক মডেল প্রদর্শন
বিজ্ঞান ও বাংলাকে একসূত্রে গেঁথে মহাবিশ্বসন্ধানী
- পার্থপ্রতিম বসু
বিজ্ঞান অগ্রগতির মূলমন্ত্র। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যতই নিয়ন্ত্রনকারী হিসাবে কাজ করুক না কেন, মূল ভিত্তিকে অস্বীকার করা যায় না। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা এবং বিজ্ঞান চেতনাকে আরও ক্ষুরধার করার লক্ষ্যে প্রয়াসী হ’ল নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল অ্যালামনি এ্যাসোসিয়েশন (নামসা) গত ৭ই নভেম্বর, ২০২৫, বেহালার শরৎ সদন প্রেক্ষাগৃহে। এবারে আর স্কুলের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে বিজ্ঞান চেতনাকে সমাজের আরও বৃহত্তর অংশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্রতী হ’ল নামসা। সমাজের ছোট ছোট অংশকে জুড়ে নিয়ে বিশ্বের উন্নতির লক্ষ্যে মাঠে নামা, 'মহাবিশ্বের সন্ধানে’ নামকরণের সার্থকতা এখানেই।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী ও গবেষক ডঃ দেবীপ্রসাদ দুয়ারী মহাশয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক বক্তৃতা। ডঃ দুয়ারী একজন শিক্ষক এবং বিজ্ঞানের প্রসারে একজন নিরলস সাধক। আমরা তাকে টেলিভিশনের পর্দায় বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে দেখেছি। বেহালা, আলিপুর, নিউ আলিপুর, খিদিরপুর, বড়িশা, সরশুনা ও মহেশতলা অঞ্চলের ১৩টি স্কুলের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছিল বিজ্ঞানের এই কর্মযজ্ঞে। সৌজন্যে, তুষারকান্তি নাগ ফাউন্ডেশন যারা বিজ্ঞানের সাথে সাথে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারের কাজে নামসাকে দীর্ঘদিন সহায়তা করে আসছে।
ডঃ দুয়ারী তার বক্তৃতায় মূলতঃ জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর আলোকপাত করেছেন। রাতের আকাশ দেখার মধ্যে যে রোমাঞ্চ আছে তা যেমন সত্যি ঠিক তেমনি সূর্য একটু এদিক ওদিক করলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে - এটাও উনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এ এক আশ্চর্য অনুভূতি। এখানেই উনি কসমিক কনশাসনেসকে গুরুত্ব দিয়েছেন। মহাশূন্য থেকে প্রাণের অনু পরমাণুর জন্ম। প্রতিটা বিন্দু আসলে একেকটা গ্যালাক্সি। তারাদের জীবাশ্ম থেকেই আমাদের সৃষ্টি। এখানেই অ্যাসট্রোবায়োলজি। আবার যে কোনো তারা শেষ বয়সে এসে নতুন তারার জন্ম দিতে পারে। এখানেই অ্যাসট্রোকেমিস্ট্রি। তাই আমাদের ভেতরের কসমিক সেন্স কে জানতে হবে। আর এই ভেতরের কসমিক সেন্সেই নিহিত আছে জ্ঞান যা আমাদের ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। - এটাই আজকের আলোচনার মূল নির্যাস, তাই ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তার পরামর্শ নিজের চিন্তাভাবনাকে বাড়িয়ে তোলো, আরও প্রসারিত কর। বক্তৃতার শেষ লগ্নে উনি রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছেন। কবিগুরু লিখেছিলেন - 'গ্রহগণ জীবনের আবাসস্থল’।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্থাপনা যা তাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার বিকাশকে আলোকিত করে। জলাভূমি সংরক্ষণ থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিজ্ঞান এমনকি হাল আমলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওদের উপস্থাপনায় স্থান করে নিয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানচেতনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক মৌলিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটলে সেখানেই হবে এই আয়োজনের সার্থকতা।