Alumni Association
সচেতনতার আলোয় স্বাস্থ্য, সেবা ও জীবনদান
CKM syndrome এবং মরণোত্তর অঙ্গদান নিয়ে নামসার জনসচেতনতামূলক আলোচনা
“An ounce of prevention is worth a pound of cure.”— Benjamin Franklin
একটি সন্ধ্যা, দুটি জরুরি বিষয়
একটি প্রাক্তনী সংগঠন কী করতে পারে? পুরনো বন্ধুদের আবার কাছে আনা, স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া কিংবা বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা—নিশ্চয়ই। কিন্তু তার বাইরেও কি একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নিজের সদস্যদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সদিচ্ছাকে বৃহত্তর সমাজের কাজে যুক্ত করতে পারে?
২৯ আগস্ট ২০২৬-এ নিউ আলিপুরের সিন্ধি ভবনে নামসা—New Alipore Multipurpose School Alumni Association—আয়োজিত জনসচেতনতামূলক আলোচনা সেই প্রশ্নের একটি সুন্দর উত্তর হয়ে উঠেছিল। বিষয় ছিল Cardiovascular–Kidney–Metabolic বা CKM syndrome এবং মরণোত্তর অঙ্গদান। একদিকে নিজের স্বাস্থ্যকে নতুনভাবে বোঝার আহ্বান; অন্যদিকে নিজের জীবনাবসানের পরেও অন্য মানুষের মধ্যে জীবনের সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখার বার্তা।
প্রাক্তনী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে প্রধান বক্তা ডা. উপল সেনগুপ্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের দুটি জটিল বিষয়কে সহজ, প্রাণবন্ত ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেন। সন্ধ্যাটি তাই নিছক একটি বক্তৃতা ছিল না; ছিল জানা, ভাবা এবং প্রশ্ন করার একটি উন্মুক্ত পরিসর।
এক সহপাঠীর ভাবনা থেকে নামসার সম্মিলিত উদ্যোগ
এই আয়োজনের গল্প শুরু হয়েছিল ২৬ জুন। ১৯৯৫ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের অভিষেক ঘোষ ফেসবুকে একটি CKM-সচেতনতা অনুষ্ঠানের খবর দেখতে পান, যেখানে বক্তা তাঁরই স্কুলজীবনের সহপাঠী ডা. উপল সেনগুপ্ত। সেন্ট জেভিয়ার্সের প্রাক্তনীদের সেই উদ্যোগ দেখে অভিষেকের মনে হয়, এমন একটি আলোচনা নামসার সদস্য এবং বৃহত্তর পরিচিত সমাজের কাছেও পৌঁছানো দরকার। পরদিনই তিনি প্রস্তাবটি নামসার কার্যকরী সমিতির সামনে আনেন।
ভাবনা দ্রুত বাস্তবের পথে এগোয়। ২ জুলাই নামসার সম্পাদক অরুণাভ রায়চৌধুরী সিন্ধি ভবনের প্রাথমিক বুকিং, সম্ভাব্য তারিখ এবং সময়ের কথা জানিয়ে অভিষেককে ডা. সেনগুপ্তের সম্মতি নিতে বলেন। যোগাযোগ চলতে থাকে এবং ৭ জুলাই বক্তার সম্মতি মেলে। প্রথম পরিকল্পনা ছিল CKM syndrome নিয়ে একটি স্বাস্থ্য-সচেতনতা সভা। ডা. সেনগুপ্তই প্রস্তাব দেন, এর সঙ্গে মরণোত্তর অঙ্গদান সম্পর্কে একটি আলোচনাও যুক্ত করা হোক। চিকিৎসা-সচেতনতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার এই সংযোগ নামসাও সানন্দে গ্রহণ করে। ১২ জুলাই নামসার GBM-এ সভাপতি ডা. অরুণাংশু চক্রবর্তী প্রস্তাবটিকে উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানান। পরে ডা. দীপ্তিময় দাসের নেতৃত্বে একটি কার্যকরী উপসমিতি গঠিত হয়।
বিষয় যত গুরুত্বপূর্ণ, তার উপস্থাপনাও ততটাই সহজবোধ্য হওয়া দরকার—এই ভাবনা প্রস্তুতির প্রতিটি স্তরে ছিল। দীপঙ্কর ঘোষ প্রথম ইংরেজি ব্যানারের ভাবনা তৈরি করেন; অভিষেক প্রস্তুত করেন বাংলা সংস্করণ। শেষ পর্যন্ত অভিষেকের বাংলা ব্যানার এবং গৌরব মিত্রের তৈরি ইংরেজি ব্যানার ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত হয়। দীপঙ্কর অনুষ্ঠান ও বক্তার পরিচিতিও প্রথমে ইংরেজিতে এবং পরে শ্রোতাদের সুবিধা ও বক্তার পছন্দের কথা ভেবে বাংলায় প্রস্তুত করেন।
রঞ্জন সরকার সাউন্ড, প্রজেকশন এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা স্পনসর করার পাশাপাশি সেদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অভ্যর্থনা, নিবন্ধন, মঞ্চ, আসনবিন্যাস ও আপ্যায়নের বিভিন্ন দায়িত্ব নেন নামসার স্বেচ্ছাসেবকেরা। পরিকল্পনা, যোগাযোগ, প্রচার, প্রযুক্তি এবং উপস্থিত মানুষদের স্বাচ্ছন্দ্য—প্রতিটি ছোট-বড় কাজ মিলিয়েই একটি ভাবনা জনসমাজের উপযোগী অনুষ্ঠানে রূপ নেয়।
এই প্রস্তুতির ভিতরে নামসার কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় রয়েছে। এখানে কোনও উদ্যোগ কেবল একজনের থাকে না। একজন ভাবেন, আরেকজন যোগাযোগ করেন, কেউ বিষয়বস্তুকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর ভাষা তৈরি করেন, কেউ প্রযুক্তি বা সময় দিয়ে পাশে দাঁড়ান। প্রাক্তনীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা এভাবেই একটি সম্মিলিত সামাজিক সম্পদ হয়ে ওঠে।
প্রাক্তনী ফিরে এলেন জ্ঞান ভাগ করে নিতে
বিশিষ্ট নেফ্রোলজিস্ট এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ডা. উপল সেনগুপ্তের বক্তা হিসেবে ফিরে আসা অনুষ্ঠানটিকে আলাদা তাৎপর্য দেয়। যে বিদ্যালয়ের পরিসরে তাঁর বেড়ে ওঠা, সেই বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী-সমাজের কাছে নিজের পেশাগত জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া ছিল এক সুন্দর প্রত্যাবর্তন। এটি কেবল একজন চিকিৎসকের বক্তৃতা নয়; এক প্রাক্তনীর অর্জন আরেক প্রজন্মের প্রাক্তনী ও বর্তমান সমাজের কাজে লাগার মুহূর্ত।
আলোচনা শুরুর আগে নামসার পক্ষ থেকে ডা. সেনগুপ্তকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সভাপতি ডা. অরুণাংশু চক্রবর্তী, সম্পাদক অরুণাভ রায়চৌধুরী এবং মেডিক্যাল উপসমিতির প্রধান ডা. দীপ্তিময় দাস স্মারক, পুষ্পস্তবক ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করেন। সংবর্ধনায় যেমন ছিল তাঁর পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি, তেমনই ছিল নামসার সঙ্গে একজন কৃতী প্রাক্তনীর আত্মিক সম্পর্কের উদ্যাপন।
CKM: হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য একই সূত্রে বাঁধা
ডা. সেনগুপ্ত প্রথমে CKM syndrome নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল স্পষ্ট: হৃদ্যন্ত্র, কিডনি এবং শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থাকে তিনটি বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে চলবে না। অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু হওয়া সমস্যা ধীরে ধীরে হৃদ্যন্ত্র ও কিডনি—দুইয়ের উপরেই প্রভাব ফেলতে পারে। একটি ঝুঁকি অন্যটিকে বাড়ায়; তাই সামগ্রিক স্বাস্থ্যচিত্রটি একসঙ্গে বোঝা জরুরি।
টাইপ–২ ডায়াবেটিস প্রসঙ্গে তিনি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। শরীরে ইনসুলিন থাকলেও কোষগুলি যখন তার প্রতি যথাযথ সাড়া দেয় না, তখন গ্লুকোজ রক্তে থেকে যায়। কিন্তু সমস্যাটি শুধু রক্তে শর্করার মাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকে না; দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের একাধিক অঙ্গের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থূলতা নিয়েও আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে। এটি কেবল চেহারা বা শরীরের ওজনের প্রশ্ন নয়; অতিরিক্ত মেদ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ এবং কিডনির ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দ্রুত রোগা হওয়ার জন্য হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়াও টেকসই সমাধান নয়। শরীর তখন সঞ্চিত শক্তি রক্ষার চেষ্টা করতে পারে। তাই সাময়িক কঠোরতার বদলে বাস্তবসম্মত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি।
আলোচনার বড় শিক্ষা ছিল—সমস্যা গুরুতর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের প্রাসঙ্গিক সূচকগুলির দিকে সময়মতো নজর দিলে ঝুঁকির শৃঙ্খল অনেক আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব। সচেতনতা এখানে ভয় তৈরির জন্য নয়; সময় থাকতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
অঙ্গদান: একটি জীবনের অবসান থেকে আরও জীবনের সম্ভাবনা
আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে উঠে আসে মরণোত্তর অঙ্গদান। শুরুতেই ডা. সেনগুপ্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি দূর করেন: ব্রেন ডেথ এবং কোমা এক নয়। ব্রেন ডেথ হলো মস্তিষ্কের সমস্ত কার্যকলাপের অপরিবর্তনীয় অবসান, যা নির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। মরণোত্তর অঙ্গদান নিয়ে সচেতন সিদ্ধান্তের জন্য এই পার্থক্যটি জানা জরুরি।
সেশনের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্লাইডটি দেখিয়েছিল একজন যোগ্য দাতার অসাধারণ মানবিক প্রভাব। একজন ব্রেন-ডেড দাতার অঙ্গ আটটি জীবন বাঁচাতে পারে; তাঁর দান করা টিস্যু পঁচাত্তরের বেশি মানুষের জীবন সমৃদ্ধ করতে পারে। হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্র বিভিন্ন রোগীকে নতুন জীবনের সুযোগ দিতে পারে। কর্নিয়া, ত্বক, অস্থি, হার্ট ভাল্ভ, টেন্ডন এবং রক্তনালির মতো টিস্যু দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করতে এবং বহু মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে।
একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়, অঙ্গদান কোনও অনানুষ্ঠানিক বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নয়। ব্রেন ডেথ নির্ধারণ, অঙ্গের উপযুক্ততা যাচাই, আইনি ও নৈতিক সুরক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিস্থাপন-সমন্বয়—সবই একটি কঠোর চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার অংশ।
কিন্তু চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ অঙ্গদানে আগ্রহী হলেও তাঁর নিকটজনেরা সেই ইচ্ছার কথা না জানলে, শোকের কঠিন মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই অঙ্গদান সম্পর্কে ভাবা মানে শুধু ব্যক্তিগতভাবে সম্মত হওয়া নয়; পরিবারের সঙ্গে আগেই খোলামেলা আলোচনা করা। সচেতনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা কথোপকথন এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
শ্রোতারা যা সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন
বিষয়ের নাম দেখে কয়েকজনের ধারণা ছিল, সন্ধ্যাটি হয়তো বেশ কঠিন ও কাঠখোট্টা হবে। অনুষ্ঠান শেষে তাঁদের অনুভূতি ছিল ঠিক বিপরীত। প্রতিক্রিয়ায় ডা. সেনগুপ্তের বক্তব্যকে বলা হয়েছে স্পষ্ট, আকর্ষণীয় এবং সকলের গ্রহণযোগ্য। একজন শ্রোতা লিখেছেন, “ইনসুলিনের ভিতর যে অত গল্প লুকিয়ে আছে, কোনওদিন ভাবারও সুযোগ হয়নি।” মন্তব্যটি যেন গোটা বক্তৃতার সাফল্যকেই ধরে রেখেছে—জটিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যে নিজের জীবনের পরিচিত গল্প খুঁজে পাওয়া।
মরণোত্তর অঙ্গদানের পর্বটিও শ্রোতাদের সামনে একটি স্পষ্ট ছবি তুলে ধরে: ব্রেন ডেথ হয়ে যাওয়া একজন মানুষের দান কীভাবে একাধিক মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত শ্রোতাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং রঞ্জন সরকারের সঞ্চালনাও প্রশংসিত হয়।
যাঁরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অনুভূতি একটি মন্তব্যে সুন্দরভাবে ধরা পড়েছে: “না এলে খুব মিস্ হত।” আরও এমন আলোচনা আয়োজনের প্রত্যাশাও উঠে এসেছে। একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানের সাফল্য সম্ভবত এখানেই—মানুষ শুধু তথ্য নিয়ে বাড়ি ফেরেন না; আরও জানতে, ভাবতে এবং আবার অংশ নিতে চান।
কৃতজ্ঞতা—এবং সামনে এগিয়ে চলার আহ্বান
নামসা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানায় ডা. উপল সেনগুপ্তকে—তাঁর জ্ঞান, সহজ উপস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য। অনুষ্ঠানটির সাফল্যের পিছনে ছিল নামসার নবীন ও প্রবীণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা, ইতিবাচক মনোভাব এবং একসঙ্গে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা। পরিকল্পনা থেকে প্রচার, প্রযুক্তি থেকে অতিথি-অভ্যর্থনা—প্রতিটি স্তরে বিভিন্ন প্রজন্মের সদস্যরা পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অভ্যর্থনা, নিবন্ধন, মঞ্চ, আসনবিন্যাস, আপ্যায়ন ও অন্যান্য দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবক, আমন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অতিথি এবং মনোযোগী শ্রোতাদের প্রতিও রইল আন্তরিক ধন্যবাদ।
এই সেমিনার নামসার একটি বৃহত্তর পরিচয়ও তুলে ধরে। নামসা কেবল অতীতের স্মৃতি রক্ষার সংগঠন নয়; এটি প্রাক্তনীদের জ্ঞান, সময়, অভিজ্ঞতা ও সহমর্মিতাকে বর্তমান সমাজের কাজে যুক্ত করার একটি সক্রিয় মঞ্চ। কখনও স্বাস্থ্য-সচেতনতা, কখনও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, কখনও সাংস্কৃতিক বা সামাজিক উদ্যোগ—প্রতিটি কর্মসূচি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রজন্মকে নতুনভাবে কাছাকাছি আনে।
বর্তমান সদস্যদের কাছে তাই আহ্বান—নামসার কাজ জানুন, খবর ভাগ করে নিন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কোনও উদ্যোগে যুক্ত হোন। যাঁরা এখনও সদস্য নন, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সেই বৃহত্তর পরিবারও জানুক: তাঁদের ভাবনা, পেশাগত দক্ষতা, সময় কিংবা স্বেচ্ছাশ্রম—সবকিছুরই এখানে মূল্য আছে। একটি Facebook post দেখে একজন সহপাঠীর মনে জন্ম নেওয়া ভাবনা যেমন একদিন জনসচেতনতার অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, তেমনই পরবর্তী অর্থবহ উদ্যোগের শুরু হতে পারে অন্য কোনও প্রাক্তনী বা শিক্ষার্থীর একটি প্রস্তাব থেকেই।
সচেতনতা নিজের জীবনকে সুরক্ষিত করতে শেখায়। সেবা ও অঙ্গদানের ভাবনা সেই জীবনের পরিধিকে অন্য মানুষের মধ্যেও প্রসারিত করে। আর একটি সক্রিয় প্রাক্তনী সমাজ সেই দুটি শক্তিকেই একত্র করে—জ্ঞানকে কাজে এবং সংযোগকে জনকল্যাণে রূপান্তরিত করে।
“সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”— কামিনী রায়